মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট

ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের জনগণ অবহেলিত দুঃস্থ এতিম শিশুদের প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের সকল ধর্মীয় জনগনেরই এতিম শিশুদের লালনপালনের জন্য বেসরকারিভাবে এতিমখানা পরিচালনা করে আসছে। বেসরকারি এসকল এতিমখানা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমাজসেবা অধিদফতর হতে সহযোগিতা প্রদান করা হয়। বেসরকারিভাবে এতিমখানাসমূহ প্রথমতঃ স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী নিবন্ধন প্রদান এবং পরবর্তীতে নিবন্ধন প্রাপ্ত বেসরকারি এতিমখানাসমূহের শিশুদের প্রতিপালন, চিকিৎসা এবং শিক্ষা প্রদানের জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয় যা ক্যাপিটেশন গ্রান্ট নামে পরিচিত। বর্তমানে চাঁদপুর জেলায় ৬৬ টি বেসরকারী এতিমখানার ১৩৩২ জন এতিম শিশুকে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রদান করা হচ্ছে। দরিদ্র এতিম শিশুদের মানবসম্পদে পরিণত করাই ক্যাপিটেশন গ্রান্টের প্রধান উদ্দেশ্য।

 

কার্যক্রম বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টগণ

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদফতরের কার্যক্রম শাখা বেসরকারি এতিমখানা নিবন্ধন এবং প্রতিষ্ঠান শাখা ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পরিচালনা করে। পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, সমাজসেবা অফিসার সদর দপ্তর পর্যায়ে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কার্যক্রম পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট। জেলা পর্যায়ের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার এবং শহর সমাজসেবা অফিসার মাঠ পর্যায়ের বেসরকারি এতিমখানার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কার্যক্রম তদারকি এবং মাঠ পর্যায় ও সদর দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকেন।

 

সেবা

১৮ বছর বয়স পর্যন্ত এতিম শিশুদের প্রতিপালনের জন্য বেসরকারি এতিমখানায় আর্থিক অনুদান প্রদান;

স্নেহ-ভালবাসা ও আদর-যত্নের সাথে লালন পালন নিশ্চিতকরণ;

আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান নিশ্চিতকরণ;

শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও মানবিক উৎকর্ষতা সাধন নিশ্চিতকরণ;

শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়তা প্রদান;

পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

 

সেবা গ্রহীতা

বেসরকারি এতিমখানার ৫-৯ বছর বয়সী এতিম অর্থ্যাৎ পিতৃহীন বা পিতৃমাতৃহীন দরিদ্র শিশুর শতকরা ৫০ ভাগ শিশু।

 

সেবাদান কেন্দ্র

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও শহর সমাজসেবা কার্যালয় এবং ৬৬ টি বেসরকারি এতিমখানা।

 

আইনগত ভিত্তি

শিশু আইন ২০১৩

স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১

স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) বিধি ১৯৬২

এতিম ও বিধবা সদন আইন ১৯৪৪

বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ ও বন্টন নীতিমালা ২০০৯

 

সেবা প্রদান পদ্ধতি (সংক্ষেপে)

বেসরকারি এতিমখানাটিকে সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধিত হতে হবে এবং এতিমখানাটিতে ন্যূনতম ১০ জন ৬-১৮ বছরের এতিম নিবাসী থাকতে হবে। ১০০% নিবাসী প্রাথমিক / মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত সাপেক্ষে শতকরা ৫০ ভাগ শিশু এ সেবার আওতায় আসবে।

 

নির্ধারিত ফরমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সচিব সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বরাবর ৩১ জুলাই এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কার্যালয়ে আবেদন দাখিল করতে হয় । ১০ আগষ্টের এর মধ্যে উপজেলা অফিস হতে জেলায় এবং ২৫ আগস্ট এর মধ্যে জেলা কার্যালয়  হতে অধিদফতরে বেসরকারি এতিমখানার তথ্য প্রেরণ নিশ্চিত করতে হয়। অতঃপর অধিদফতর হতে ১৫ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হয় । সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই পূর্বক মনোনিত বেসরকারি এতিমখানার বিপরীতে বরাদ্দপত্র অধিদফতর বরাবর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রেরণ করা হয়। অধিদফতর কর্তৃক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দপত্র প্রেরণ করা হয়। প্রাপ্ত বরাদ্দের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট অফিসারের নিকট বিল দাখিল করলে যাচাই বাছাইপূর্বক উক্ত বিল পাশ করে তা উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার কর্তৃত বিল পাশ করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের দাপ্তরিক হিসেবে জমা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সংশ্লিষ্ট এতিমখানার সভাপতি/ সম্পাদকের অনুকূলে ক্রস চেকের মাধ্যমে ক্যাপিটেশন গ্রান্ট হস্তান্তর করেন।

 

কার্যাবলি

এতিমখানা তৈরী ও স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী নিবন্ধন;

নির্ধারতি ফরমে উপজেলা সমাজসেবা/শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে অবেদন;

সিভিল সার্জন বা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদকারী এতিম শিশুর বয়স ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা যাচাই;

ভর্তি কমিটি কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন;

বিনামূল্যে এতিম শিশু ভর্তি;

কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রাপ্তির জন্য আবেদন;

সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তার কর্তৃক এতিমখানা জরিপ, প্রতিবেদন পরিদর্শন ও সুপারিশসহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রেরণ;

উপপরিচালক, জেলা সমাজসেবার সুপারিশসহ অধিদফতরে প্রেরণ;

অধিদফতর হতে মন্ত্রণালয়ের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ কমিটিতে সুপারিশ প্রেরণ;

ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বরাদ্দ কমিটির কর্তৃক বরাদ্দ প্রদান/ আবেদন খারিজ/ পূর্বতন বরাদ্দ পরিবর্তন/ পরিবর্ধন;

এতিম শিশুদের ভরণপোষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত মর্যাদায় সমাজে পুনর্বাসন।

 

নাগরিকদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র

বেসরকারি এতিমখানার পরিচালনায় কোন ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা;

যাকাত, ফিতরা, দানসহ ইত্যাদি আর্থিক সহায়তা করা;

শিশুদের শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে যে কোন সহযোগিতা;

শিশুর পুনর্বাসনে আর্থিক ভাবে, চাকুরী প্রদান মাধ্যমে বা তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করা;

শিশুদের প্রতি সহমর্মি আচরণ করা;

শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে যে কোন ধরণের সহযোগিতা।

 

সেবা প্রদানের সময়সীমা

বেসরকারি এতিমখানা কর্তৃক ক্যাপিটেশন গ্রান্টের আবেদন প্রাপ্তির পর ৭ মাস।

 

যার সাথে যোগাযোগ করতে হবে

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, সকল উপজেলা

শহর সমাজসেবা কার্যালয়  (জেলা পর্যায়ের পৌরসভার ক্ষেত্রে)

 

বরিশাল বিভাগের ০৬ টি জেলায় এ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

 

ক্রমিক

জেলার নাম

ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত এতিমখানার সংখ্যা

ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত নিবাসীর সংখ্যা

01

বরিশাল

106

2149 জন

02

ঝালকাঠি

56

1456 জন

03

ভোলা

24

623 জন

04

বরগুনা

131

2386 জন

05

পিরোজপুর

130

3130 জন

06

পটুয়াখালী

54

961 জন

মোট =

501

10705 জন

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter