মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ। সমাজসেবা অধিদফতরের জরিপমতে বাংলাদেশে প্রায় ১০,২০,১২৫ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠী রয়েছে।  কামার, কুমার, নাপিত, বাঁশ ও বেত প্রস্তুতকারক, কাঁশা/পিতল প্রস্তুতকারী, নকশী কাঁথা প্রস্তুতকারী, জুতা মেরামত/প্রস্তুতকারী, লোক শিল্প ইত্যাদি তথাকথিত নিম্নবর্ণের জনগোষ্ঠী এ প্রান্তিক সম্প্রদায়ভুক্ত। প্রযুক্তির সংস্পর্শে এনে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসকল জনগোষ্ঠীর পেশাকে আধুনিকায়ন করে বেকারত্ব দূর করা যায়। প্রযুক্তিগত পেশায় প্রশিক্ষিত করে কর্মসংস্থানে অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

 

লক্ষ্য  উদ্দেশ্য :

 

— বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ।

— প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে বেকারত্ব দূর করা।

— তাদের আদি পেশার টেকসই উন্নয়নে আর্থিক সহায়তার জন্য মূলধন প্রদান।

— প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা।

— অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার সাথে সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা; পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র পেশাজীবি সম্প্রদায়কে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্তকরণ।

 

সেবা প্রাপ্তির স্থান/অফিসের নাম:

 

বরিশাল বিভাগের ০৬ টি জেলা

 

দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা / কর্মচারী:

 

সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা

 

সেবা প্রদান পদ্ধতি (সংক্ষেপে):

 

বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে শহর  সমাজসেবা অফিসার বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন। অত:পর নির্ধারিত ফরমে আগ্রহী ব্যক্তিদের সমাজসেবা অফিসার বরাবর আবেদন করতে হয়। প্রাপ্ত আবেদন ওয়ার্ড কমিটি কর্তৃক সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাব আকারে উপজেলা কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। অত:পর কমিটি যাচাই বাছাই করে বরাদ্দ অনুসারে উপকারভোগী নির্বাচন করে। 

 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ প্রদান :

দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রযুক্তির সংস্পর্শে এনে আদি পেশায় যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এদের পেশাকে আধুনিকায়ন করে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা হবে। তখন কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন এ সকল মানুষগুলো আধুনিক বাংলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সুযোগ পেয়ে নবজীবন লাভ করবে। প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের সাথে সাথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

এ লক্ষ্যে ১৮ হতে ৫০ বছরের কর্মক্ষম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ট্রেড ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় । স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী হাতে কলমে Apprenticeship (On-the-Job) প্রশিক্ষণের মধ্যদিয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যার মাধ্যমে NTVQF Level-1 (National Training and Vocational Qualifications Framework) সনদ পত্র পাবে।

 

প্রশিক্ষণের ধরণ :

দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আয়বর্ধক প্রকল্পর সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয় জেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে স্থানীয় চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত কম্পিটেন্সি ষ্ট্যান্ডার্ড লগ বুক (সিএসএলবি) অনুযায়ী উক্ত ৬টি আদি পেশার ব্যক্তিদের নিজ পেশার মান উন্নয়নে ৩ থেকে ৬ মাস (৩৬০ ঘন্টা) হাতে কলমে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ করা হবে।

 

প্রশিক্ষণ মডিউল :

বিএমইটি/সমাজসেবা অধিদফতর/বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রত্যয়িত সিলেবাস/মডিউল অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।

 

প্রশিক্ষণ ট্রেডসমূহ :

 

ক্রমিক

ট্রেড’এর নাম

আদি পেশার নাম

০১

হেয়ার ড্রেসিং/বিউটি কেয়ার

নাপিত

০২

কুমার (মৃৎ শিল্প)/ফর্মিং, বডি গ্লেজিং এন্ড ডেকোরেশন

কুমার

০৩

জুতা মেরামত/প্রস্তুতকারী (ফুটওয়ার প্রোডাকশন এন্ড মেইন্টেনেন্স)/ লেদার গুডস এন্ড ফুট ওয়ার

জুতা মেরামত/প্রস্তুতকারী

০৪

বাঁশ ও বেত প্রস্তুতকারক/বেম্বু এন্ড কেন ওয়ার্কস

বাঁশ ও বেত প্রস্তুতকারক

০৫

কাঁস/পিতল প্রস্তুতকারী/ব্রাসওয়ার প্রোডাকশন

কাঁসা/পিতল প্রস্তুতকারী

০৬

কামার/ব্ল্যাক স্মিত

কামার

০৭

লোকশিল্প (গম্ভীরা, আলকাপ, নকশী হাতপাখা, শখের হাড়ি তৈরি ও নকশা আঁকা, ভাওয়ায়া, ভাটিয়ালি, বাউল গান, শীতলপাটি বা সমজাতীয় শিল্প)

লোকশিল্প

০৮

নকশী কাঁথা শিল্প

নকশী কাঁথা প্রস্তুতকারক

 

এছাড়াও ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয় চাহিদার পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করে সমাজসেবা অধিদফতরের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ/সরকারি প্রত্যয়িত প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কম্পিটেন্সি ষ্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে ট্রেড অনুযায়ী অনুরূপ নামকরণ ও সিলেবাস অনুসরণ করে ট্রেড চালু করতে পারবে।

 

প্রশিক্ষণ পদ্ধতি :

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১৫% পরিবারের প্রতিনিধি সদস্যকে পরিবার প্রতি ১জন করে বা পরবর্তীতে সরকারি আদেশের দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে এবং প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে ৫০০০/- টাকা হারে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। প্রতি ব্যাচে ৪০ জন করে শিক্ষানবিশ নির্বাচন করা হবে। প্রশিক্ষণ সমপনান্তে যথোপযুক্ত পরীক্ষা গ্রহণ করে বিএমইটি/বাকাশিবো কর্তৃক সনদ প্রদান করা হবে।

 

প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন পদ্ধতি :

প্রশিক্ষণ গ্রহণে ইচ্ছুক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট থেকে আবেদন পত্র আহ্বান করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীগণ নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করবেন। প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে চরম দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী কর্মক্ষম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। চরম দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী আগ্রহী প্রার্থী না পাওয়া গেলে দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী কর্মক্ষম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পৌরসভা কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত প্রাথমিক তালিকা এবং আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই পূর্বক শহর কমিটি প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করে তালিকা চূড়ান্ত করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

আর্থিক অনুদান :

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৫০% পরিবারকে (পরিবার প্রতি ১জন) জনপ্রতি আদি পেশার টেকসই উন্নয়নের জন্য ১৮,০০০/- (আঠার হাজার) টাকা অথবা ৫ জনের গ্রুপে ৯০০০০/- (নব্বই হাজার) টাকা মূলধন পুঁজি হিসাবে এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে স্ব পেশায় প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী চরম দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

 

পৌরসভা কমিটি গঠন :

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) (জেলা পর্যায়ের পৌরসভা) এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/উপজেলা নির্বাহী অফিসার (উপজেলা পর্যায়ের পৌরসভা)

সভাপতি

স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ২(দুই) জন (১জন পুরুষ ও ১জন মহিলা)

সদস্য

পৌরসভা মেয়রের প্রতিনিধি ১(এক) জন

সদস্য

পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি (জেলা পর্যায়ের পৌরসভার জন্য)/থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপজেলা পর্যায়ের পৌরসভার জন্য)

সদস্য

সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি (জেলা পর্যায়ের পৌরসভার জন্য)/উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (উপজেলা পর্যায়ের পৌরসভার জন্য)

সদস্য

সংশ্লিষ্ট পৌরসভার কাউন্সিলর

সদস্য

উপজেলা/জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

সদস্য

উপজেলা/জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

সদস্য

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা

সদস্য

১০

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপক

সদস্য

১১

জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা

সদস্য

১২

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধি ১(এক) জন

সদস্য

১৩

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট সংগঠন এর প্রতিনিধি ১(এক)জন (যদি থাকে)

সদস্য

১৪

সমাজসেবা কর্মকর্তা

সদস্য সচিব

 

প্রয়োজনীয় ফি/ট্যাক্স/আনুষঙ্গিক খরচ: বিনামূল্যে

 

নির্দিষ্ট সেবা পেতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রতিকারকারী কর্মকর্তা

১. উপপরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট জেলা

২. কর্মসূচি পরিচালক

 

 

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter